1. admin@banglareport24.com : admin :
বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

কালীগঞ্জ সরকারী শ্রমিক কলেজশিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ইফতার

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩
  • ২৪৬ বার পঠিত

উজ্জ্বল আহমেদ/ ফাহিম

ইফতারের শুরুটা খেজুর আর শরবত দিয়ে, তারপর তেলেভাজা, হালিম, ফল- আরও কত কী! ইফতার আইটেমের নাম মাথায় আসে রমজানে। ইফতারের টেবিলকে সাজিয়ে তোলার, বিশেষ আয়োজনের বিশেষ রেসিপি পরিবেশনার এমন ঐতিহ্য শুধু বাসা বাড়িতে নয় ভার্সিটি কলেজেও এর আয়োজন করে থাকেন।

একটি ক্যাম্পাস বা শিক্ষাঙ্গন একজন শিক্ষার্থীর জন্য জীবন গঠনের অন্যতম প্ল্যাটফরম। শুধু জীবন গঠনের জন্য নয় বরং একটি একটি ক্যাম্পাস প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট আবেগ আর ভালোবাসার জায়গা। ক্যাম্পাসজুড়ে থাকে কতশত স্মৃতি আর ভালোবাসা। পড়াশোনা, আড্ডা, গানবাজনা, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি ঠাট্টা, দুষ্টুমি আর খুনসুটি। আহা! কতশত স্মৃতি বিজড়িত মুহূর্ত কাটে ক্যাম্পাসজুড়ে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কারণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনজুড়ে আনন্দের সিংহভাগ থাকে ক্যাম্পাস জীবনে। এই ক্যাম্পাস জীবনের আনন্দ আরো বেশি হয় যখন ১৮ একরের ক্যাম্পাসের সবুজ বিস্তৃত কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের কোণায় কোণায় জড়ো হয়ে বন্ধুরা মিলে ইফতারের আয়োজন করে থাকে।

বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো পবিত্র রমজান। প্রতি বছর রমজানের এই সময় কাটে পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু এবারের রমজানের সময় ভিন্নভাবে কাটাতে হচ্ছে। একদিকে রমজানের সময়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক পরীক্ষা চলছে, অন্যদিকে ১৮ একরের  ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করার মুহূর্ত ভাগাভাগি করে নিতে আনন্দে মেতে উঠেছে। বলা যায় কষ্টের মধ্যেও একটু প্রশান্তির ছোঁয়া পাওয়ার প্রচেষ্টা। কারণ আমাদের সব সুখে-দুঃখে পরিবারকে যেমন পাশে পাই, তেমনই বন্ধু-বান্ধবদের ছোঁয়া পাই। তেমনি মাহে রমজানের চার দিনে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ একাউন্টিং বিভাগের হুটহাট ইফতার আয়োজন করা ছিল একটি প্রাণবন্ত মুহূর্ত। শুধু কলেজের অন্যান্য বিভাগ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এমন আয়োজন করে থাকে। বলতে গেলে, এমন আয়োজনে আমাদের, ফিরে আসে আনন্দের কোলাহল। গড়ে ওঠে একতার মেলবন্ধন। যেই বন্ধনে নেই কোনো ভেদাভেদ, আছে শুধু সম্প্রীতির বন্ধন। এই কথাটি বলার অর্থ হলো, আমাদের এই আয়োজনে অন্য ধর্মের বন্ধুরাও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। একসঙ্গে বসে ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

সবুজ বিস্তৃত মাঠে ইফতারের আগ মুহূর্তে বন্ধুদের মধ্যে কেউ ব্যস্ত গল্পে-আড্ডায়। আবার কেউ কেউ ব্যস্ত ইফতারের নানা আয়োজনে। তখন নিজের কাছে সত্যি মনে হয় সারা দিনের ক্লান্তি আর নেই। মনে হয় যেন আমাদের মনের আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছি। মসজিদে মোয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি শুনে খোলা আকাশের নিচে ইফতার করার ধুম পড়ে যায়। ইফতার শুরু করার পর ক্ষণিকের মধ্যে অন্তর শীতল হয়ে যায়, আত্মতৃপ্তি অনুভব করি। সময় তার আপন গতিতে চলে যায়, রেখে যায় আমাদের কাটানো স্মৃতি বিজড়িত সময়গুলো। যে স্মৃতি আমাদের অতীত স্মরণ করিয়ে দেয়। এমন সময় বারবার ফিরে আসুক আর গড়ে উঠুক আমাদের একতার মেলবন্ধন।

ইফতারে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ কুমার রোহিত বলেন, মাহে রমজান ঘিরে প্রতি বছর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মাঝে একরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করে। সেই উৎসাহ-উদ্দীপনা থেকেই আমার বন্ধুরা মিলে কলেজ মাঠে ইফতারের আয়োজন করে। এই আয়োজনে মুসলিম শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীর শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত হওয়ায় পরিবেশটা আরো মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। যা আমাকে সত্যি মুগ্ধ করেছে এবং আমার জীবনে প্রথম এমন আনন্দ মুহূর্ত উপভোগ করলাম। আর এভাবেই আমাদের দেশে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ বাংলার রিপোর্ট ২৪
Theme Customized By Shakil IT Park